ভূমিকম্প কাকে বলে?
ভূমিকম্পের কারণ ও ফলাফল কি?
ভূমিকম্প, প্রকৃতির এক ভয়াবহ থাবা, যা মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দিতে পারে সভ্যতার স্তুপ। ভূ-অভ্যন্তরে যখন বিপুল পরিমাণ শক্তি হঠাৎ মুক্তি পায়, তখনই আমরা এই ভয়ঙ্কর কম্পন অনুভব করি। কখনো মৃদু কম্পন, আবার কখনো তীব্র ঝাঁকুনিতে কেঁপে ওঠে পুরো পৃথিবী। ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হয়ে ওঠে অপরিসীম।
ভূমিকম্পের প্রধান কারণ হলো ভূ-অভ্যন্তরস্থ টেকটোনিক প্লেটের স্থানচ্যুতি। পৃথিবীর উপরিভাগ বেশ কয়েকটি বিশাল টেকটোনিক প্লেট দিয়ে তৈরি। এই প্লেটগুলো সর্বদা নড়াচড়া করছে। যখন দুটি প্লেটের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, তখন বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়, যা ভূমিকম্পের সূত্রপাত ঘটায়। এই সংঘর্ষের ফলে প্লেটগুলোর মধ্যে ফাটল দেখা দেয়, যা চ্যুতিরেখা নামে পরিচিত। বেশিরভাগ ভূমিকম্পই এই চ্যুতিরেখা বরাবর ঘটে থাকে।
ভূমিকম্পের আরও কিছু কারণ রয়েছে, যেমন:
ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার জন্য রিখটার স্কেল ব্যবহার করা হয়। রিখটার স্কেলে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত সংখ্যা ব্যবহার করে ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। রিখটার স্কেলে প্রতিটি একক বৃদ্ধির অর্থ ভূমিকম্পের শক্তি ১০ গুণ বৃদ্ধি।
রিখটার স্কেলে মাত্রা | প্রভাব |
---|---|
২.৫ এর নিচে | সাধারণত অনুভূত হয় না, তবে যন্ত্রে ধরা পড়ে |
২.৫ - ৫.৪ | অনুভূত হয়, তবে সামান্য ক্ষতি হতে পারে |
৫.৫ - ৬.০ | সামান্য ক্ষতি হতে পারে |
৬.১ - ৬.৯ | জনবহুল এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে |
৭.০ - ৭.৯ | ব্যাপক ক্ষতি হবে |
৮.০ বা তার বেশি | ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ হবে |
বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটি ভারতীয়, ইউরেশীয় এবং বার্মার টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। বিশেষ করে, সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চল ডাউকি চ্যুতি এবং টেকনাফ-সীতাকুণ্ড চ্যুতি নামে দুটি সক্রিয় চ্যুতিরেখার উপর অবস্থিত, যা ভূমিকম্পের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে যেকোনো সময় ৮ মাত্রারও বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প হতে পারে। এ ধরনের ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, যা দেশের অর্থনীতি এবং জনজীবনে বিরাট প্রভাব ফেলবে।
ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য এবং সতর্কতার সাথে কাজ করতে হবে। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় উল্লেখ করা হলো:
ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত প্রস্তুতির মাধ্যমে ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমানো এবং ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করা সম্ভব।
ভূমিকম্প প্রস্তুতির জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো:
ভূমিকম্প এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে প্রস্তুতি এবং সচেতনতার মাধ্যমে আমরা এই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করতে পারি এবং নিজেদের ও আমাদের প্রিয়জনদের নিরাপদ রাখতে পারি।
```
104 টি প্রশ্ন
106 টি উত্তর
2 টি মন্তব্য
2 জন সদস্য