আমরা প্রাত্যহিক জীবনে যে সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার করি তা হল দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে দশটি মৌলিক অঙ্ক (০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯) ব্যবহার করে যেকোনো সংখ্যা প্রকাশ করা হয়। দশমিক পদ্ধতিকে "বেস-টেন" পদ্ধতিও বলা হয় কারণ এখানে প্রতিটি স্থানীয় মান তার ডানদিকের স্থানীয় মানের দশ গুণ।
দশমিক পদ্ধতির উৎপত্তি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা না গেলেও ধারণা করা হয়, মানুষের হাতে দশটি আঙুল থাকার কারণে তারা প্রথমে গণনা করার জন্য আঙুল ব্যবহার করতো। এই দশভিত্তিক গণনা পদ্ধতি পরবর্তীতে বিভিন্ন সভ্যতায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রাচীন মিশরীয়, ব্রাহ্মী, গ্রিক, হিব্রু, রোমান এবং চীনা সভ্যতায় দশ এবং এর সূচক ব্যবহার করে সংখ্যা প্রকাশ করা হতো।
তবে, এই প্রাচীন পদ্ধতিগুলোতে বড় সংখ্যা প্রকাশ করা এবং গাণিতিক ক্রিয়া সম্পাদন করা বেশ জটিল ছিল। এই সমস্যার সমাধান হয় "হিন্দু-আরবি" সংখ্যা পদ্ধতি আবিষ্কারের মাধ্যমে। এই পদ্ধতিতে শূন্য সহ দশটি মৌলিক অঙ্ক ব্যবহার করে যেকোনো সংখ্যা প্রকাশ করা সম্ভব হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে ভগ্নাংশ প্রকাশের জন্য এই পদ্ধতিতে দশমিক চিহ্ন (.) যুক্ত করা হয় এবং এভাবেই আধুনিক দশমিক পদ্ধতির উদ্ভব হয়।
দশমিক আবিষ্কার করেন ভারতের আর্যভট্ট আবার অনেকে মনে করেন পিথাগোরাস। এর সঠিক জবার পাওয়া খুবই মুশকিল।
দশমিক পদ্ধতি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।
দশমিক পদ্ধতি একটি সরল, কার্যকর এবং সর্বজনীন সংখ্যা পদ্ধতি। এই পদ্ধতি গণিত, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দশমিক পদ্ধতির সরলতার কারণে এটি সহজেই শেখা এবং ব্যবহার করা যায়। এছাড়াও, এই পদ্ধতিতে বড় সংখ্যা এবং ভগ্নাংশ সহজেই প্রকাশ করা যায় এবং গাণিতিক ক্রিয়া সম্পাদন করা অনেক সহজ।
দশমিক পদ্ধতি মানব সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন। এই পদ্ধতি আমাদের জীবনযাত্রাকে সহজ এবং গতিশীল করে তুলেছে। ভবিষ্যতেও এই পদ্ধতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
```
দশমিক সংখ্যাপদ্ধতির (Decimal System) উদ্ভাবন এবং এর ব্যবহার প্রাচীন ভারতের গণিতবিদদের কৃতিত্ব হিসেবে স্বীকার করা হয়। বিশেষত, দশমিক স্থানমূল পদ্ধতি (Decimal Place-Value System), যা আজকে আমরা ব্যবহার করি, প্রাচীন ভারতীয় গণিতবিদরা আবিষ্কার করে ছিলো।
খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক থেকে পঞ্চম শতকের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে ভারতীয় গণিতবিদরা দশমিক স্থানমূল পদ্ধতির আবিষ্কার করেন, যেখানে প্রতিটি সংখ্যার মান তার স্থানের উপর নির্ভর করে। এই পদ্ধতিটি ৯টি অঙ্ক (১ থেকে ৯) এবং পরে শূন্যের ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়।
আর্যভট্ট (খ্রিস্টাব্দ ৪৭৬–৫৫০), একজন প্রাচীন ভারতীয় গণিতবিদ, দশমিক স্থানমূল পদ্ধতি ব্যবহার করতেন। তাঁর রচনায় গণিতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দশমিকের ব্যবহার দেখা যায়। এছাড়া ব্রহ্মগুপ্ত এবং অন্যান্য ভারতীয় গণিতবিদরাও এই পদ্ধতির প্রচার ও প্রসারে ভূমিকা রেখেছেন।
104 টি প্রশ্ন
106 টি উত্তর
2 টি মন্তব্য
2 জন সদস্য