সাধারণ ডট নেটে আপনাকে স্বাগতম! রেজিষ্ট্রেশন করে আজই আমাদের পরিবারের সদস্য হয়ে যান...
0 টি পছন্দ 0 টি অপছন্দ
মোনালিসার হাসি কি আসলেই রহস্যময়? কেন?

image


মোনালিসা!!! নামটি শুনলেই সবার প্রথমে একটা জিনিসই মাথায় আসে আর সেটা হলো একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম যেটা একে ছিলেন শিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চি। আহ! কি সুন্দর রহস্যময় একটি হাসি! কিন্তু তার হাসি কি আসলেই রহস্যময়? কি আছে এই হাসির পিছনে, কে এই মোনালিসা সেই গল্পই করবো আপনাদের সাথে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক একদম শুরু থেকে…

ধারণা করা হয়, মোনালিসা চিত্রকর্মটি লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ১৫০৩ থেকে ১৫১৯ সালের মধ্যে আর্ট করেন। মজার ব্যপার হলো লিওনার্দো দা ভিঞ্চি মারা যান ১৫১৯ সালে তার মানে তিনি তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এটি আকতে থাকেন। কিন্তু এটা কার মুখ যে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আর্ট করেই গেলেন? বউ এর ছবি হয়তো, এটা অনেকের মনে আসতেই পারে। কিন্তু লিওনার্দো দা ভিঞ্চি কখনো বিয়েই করেন নি। তাহলে কার ছবি হতে পারে?

অনেকে মনে করেন, মোনালিসা হয়তো লিওনার্দোর কুমারী অবস্থায় তার মা, আবার কেউ মনে মোনালিসা হয়তো তার কোনো বান্ধবী। আবার সব থেকে আলোচিত একটা ধারণা যেটা হলো মোনালিসা একজন ব্যবসায়ীর স্ত্রীর প্রতিকৃতি। একজন ফ্লোরেন্টাইন ব্যবসায়ী যার নাম ফ্রান্সেস্কো ১৫০৩ সালে লিওনার্দো এবং অন্য আরেকজন শিল্পীকে তার স্ত্রী প্রতিকৃতি আর্ট করার জন্য কাজ দেন। তাদের মধ্যে একটা চুক্তিও হয়। লিওনার্দোর সাথে চুক্তি ছিলো যে ১৫০৫ সালের মধ্যে তার কাজ যেন শেষ হয় কিন্তু ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো লিওনার্দো সেটা করতেই পারে নি মানে তখনও মোনালিসার চিত্রকর্ম অসম্পুর্ণ ছিল তাই লিওনার্দো তার এই কাজের জন্য কোনো পেমেন্ট পান নি। তবে এই চিত্রকর্মের নামকরণ করা হয় ১৫৫০ সালে। 

অনেকের মতে, মোনালিসার চিত্রকর্ম লিওনার্দো ১৫১৬ সালেই শেষ করেন আবার অনেকে বলেন যে, না! লিওনার্দো কখনোই এই চিত্রকর্ম শেষ করতে পারেন নি। সেটা যাই হোক, কিন্তু লিওনার্দোর মৃত্যুর পর ফরাসি রাজাদের ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল এই মোনালিসা চিত্রকর্ম। ফরাসি বিপ্লবের পর নেপোলিয়ন বোনাপার্টের শোবার ঘরে জায়গা করে মোনালিসা। ১৮১৫ সালে জনসাধারণের দেখার জন্য ‘ল্যুভর মিউজিয়াম’-এ স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু ১৯১১ সালে একজন ইতালীয় জাতীয়তাবাদী ‘পেরুজিয়া’ নামক একজন ব্যক্তি ল্যুভর থেকে ছবিটি চুরি করে। দুই বছর পর ইতালিতে পুনরুদ্ধার করা হয় এবং আবার ল্যুভর মিউজিয়ামে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে ল্যুভর মিউজিয়ামের "Salle des États" এ কড়া নিরাপত্তার অধীনে প্রদর্শিত হচ্ছে। ল্যুভ জাদুঘরের তথ্যমতে প্রায় ৮০% পর্যটক শুধু মোনালিসার চিত্রটি দেখার জন্য আসে। 

তাহলে এখন জানা যাক, মোনালিসার হাসি এতো রহস্যময় কেন? কি আছে এই হাসিতে?
প্রথমত, মোনালিসার হাসি দেখে স্পষ্টভাবে বুঝা যায় না সে সুখী নাকি দুঃখী নাকি রাগান্বিত নাকি অন্য কোন আবেগ প্রকাশ করছে। এই বিষয়টাই মানুষের মধ্যে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করার সুযোগ করে দেয় আর এই জন্যই একেক জন তার হাসির ব্যাখ্যা একেক ভাবে দেন। এভাবেই শুরু হয় রহস্য।
দ্বিতীয়ত কিছু লোক বিশ্বাস করেন যে, মোনালিসার হাসি নাকি সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হয়। এমনটাও বলে যে, বিভিন্ন সময়ে ছবিটি দেখলে বিভিন্ন বিভিন্ন আবেগ প্রকাশ পায় তার হাসিতে। এটা আসলেই রহস্যের বিষয়।
আবার মোনালিসার আসল পরিচয় ২০০৫ সালে প্রমাণিত হলেও এখনো অনেকে মনে করেন যে মোনালিসার আসলে একটা কাল্পনিক চরিত্র মাত্র। এই প্রতিকৃতির কেউ নেই, লিওনার্দো তার মনের মতে করে অপরিচিত কাউকে আর্ট করেছিলেন।
মোনালিসার এই হাসির রহ্স্য অনেকেই অনেক ভাবেই ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন। কয়েক শতাব্দী থেকে যেসব সমীকরণ মানুষ এখনো মিলাতে পারে নি তাদের মধ্যে মোনালিসার এই হাসি হচ্ছে একটি। আর এই কন্টোভার্সির জন্যই মোনালিসা চিত্রকর্মের ইতিহাসে সব থেকে বিখ্যাত আর সব থেকে আলোচিত চিত্রকর্ম।

এবার তাহলে মোনালিসা সম্পর্কে আরোও কিছু মজার আর ইন্টারেস্টিং কথা শেয়ার করিঃ

১) আগেই বলেছি যে, লিওনার্দো মোনালিসাকে কখনই সম্পূর্ণ করতে পারেননি, এটি একটি অসম্পূর্ণ চিত্রকর্ম যেটা সে তার মৃত্যুর আগে পর্যন্ত করে গেছেন।

২) মোনালিসার আসল নাম ছিলো ‘লিসা দেল জোকোন্দো’ যেটি প্রমাণিত হয় ২০০৫ সালে। যদিও এটা নিয়ে এখনো কন্ট্রোভার্সি আছেই তবে লিসা দেল জোকোন্দোকে নিয়ে উইকিপিডিয়াতে মোনালিসার থেকেও বড় একটা উইকি পেজই আছে, জানার কৌতুহল থাকলে পড়তেই পারেন।

৩) চিত্রকর্মটি প্রথমে পপলার কাঠের একটি প্যানেলে আঁকা হয়েছিল।

৪) ফরাসি বিপ্লবের সময় এটি রক্ষা করার জন্য মোনালিসা একসময় রান্নাঘরের জন্য ব্যবহৃত একটি ছোট ঘরে লুকিয়ে ছিল।

৫) কিছু লোক মনে করেন যে, মোনালিসাতে কোন হাসি নেই, বরং একটি সূক্ষ্ম ভ্রু রয়েছে। 

৬) অনেকে আবার বিশ্বাস করেন যে, মোনালিসার চোখে "LV" অক্ষর লুকিয়ে আছে, যা লিওনার্দো দা ভিঞ্চির নামের প্রতীক। যদিও আমি অনেক জুম করেও কিছুই পাই নি।

৭) কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন,  মোনালিসার মুখের অস্পষ্ট ফোলাভাব ইঙ্গিত দেয় যে সে গর্ভবতী। মানে মোনালিসা বিবাহিত।

৮) ২০০৫ সালে মোনালিসাকে একটি বিশেষ বাল্টে করে জাপানে একটি প্রদর্শনীতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এটি ছিল প্রথমবার মোনালিসার ফ্রান্সের বাইরে ভ্রমণ।

৯) মোনালিসা চিত্রকর্মের নামে কোনো বীমা করা হয়নি তাই মোনালিসা চিত্রকর্মের মুল্য নির্ধারণ করাও সম্ভব নয়। এই জন্যই এখন পর্যন্ত এই চিত্রকর্ম কোথায় বিক্রি হয় নি, আর কখনো বিক্রি হবেও না। 

Sources:
---------------
ℹ️ Britannica : https://www.britannica.com/topic/Mona-Lisa-painting

ℹ️ Digest from Experts : https://digestfromexperts.com/5003/mona-lisa-mandela-effect-smile/

ℹ️ Info Pulse Live : https://www.infopulselive.com/arts-culture/the-mona-lisa-mystery-why-is-it-the-worlds-most-famous-painting/
 


0 টি পছন্দ 0 টি অপছন্দ
টেলিপ্যাথি (Telepathy) কি সম্ভব? ফ্যাক্ট নাকি মিথ?

image


টেলিপ্যাথি (Telepathy) হলো এক ধরনের মানসিক যোগাযোগ মাধ্যম বা প্রক্রিয়া, যেখানে দু’জন ব্যক্তি কোনো প্রকার শারীরিক বা প্রযুক্তিগত মাধ্যম ছাড়াই শুধুমাত্র মনের মাধ্যমে একে অপরের কাছে তথ্য আদান প্রদান করতে পারে। এটি প্যারাসাইকোলজির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং বহু বছর ধরে বিজ্ঞানী, দার্শনিক ও সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু প্রশ্ন হলো টেলিপ্যাথি কি আদৌ সম্ভব? নাকি এটি শুধুই কল্পনা?


আপনি যদি X-Men সিরিজ দেখে থাকেন তাহলে টেলিপ্যাথির ধারণা আপনার কাছে অনেকটাই ক্লিয়ার হয়ে গেছে। এই সিরিজের মেইন ক্যারেক্টার "প্রফেসর" একটি হেড ব্যান্ড ব্যবহার করে যেকোনো মানুষের মস্তিষ্ক পড়তে পারে ও তার সাথে যোগাযোগ করতে পারে। এরপর স্টার ওয়ারস এর 'জেডি' এর চরিত্রেও টেলিপ্যাথির ব্যবহার করা হয়। 


এসব তো শুধু মুভি বা ফিকশনের কাহিনি। কিন্তু বাস্তব জীবনে বিজ্ঞানীরা টেলিপ্যাথি নিয়ে বহু গবেষণা করেছেন কিন্তু এখনও কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে আসলেই একজনের মস্তিষ্ক আরেকজনের মস্তিষ্কের সাথে যোগাযোগ করতে পারে কিনা। মানুষের মস্তিষ্ক ও কম্পিউটারের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করার জন্য Brain-Computer Interface (BCI) টেকনোলজি আবিষ্কার হয়েছে কিন্তু Brain-Brain Interface এখনো আবিষ্কার হয় নি। 


তাহলে আপনার কি মনে হয় যে এটা অসম্ভব? তাহলে কিছু ঘটনার কথা বলি। 


হাভার্ড মেডিকেল স্কুলের ল্যাবে একজন ব্যক্তি তার মস্তিষ্ক এর মাধ্যমে একটি ইদুরের মস্তিষ্কে সিগনাল পাঠানোর মাধ্যমে ইদুরের লেজ নাড়াতে সক্ষম হন। সব থেকে অবাক করার বিষয় হলো তিনি এটি পরীক্ষা করতে গিয়ে ৯৪% সময়ই সফল হন। পরীক্ষাটি এরকম ভাবে করা হয়েছিলো যে, ব্যক্তিটি কম্পিউটারের স্ক্রিনের আলোর দিকে একবার তাকাচ্ছিলো এবং এই তাকানো থেকে একটি সিগনাল পাঠানো হচ্ছিলো একটি আল্ট্রা-সাউন্ড মেশিনে। আল্ট্রা-সাউন্ড মেশিনটি নিম্ন শক্তির আল্ট্রা-সাউন্ট পালস পাঠাচ্ছিলো ইদুরের ব্রেইনে। ইদূরের ব্রেইনের যে অংশ ইদুরের লেজ কন্ট্রোল করে সেই অংশটি এই আল্ট্রা-সাউন্ড পালস রিসিভ করে সেই অনুযায়ী রেসপন্স করতো।


অনেকটা বাইনারি চয়েস বা ইয়েস-নো এর উত্তরের মতো। আলট্রা-সাউন্ড মেশিনটি ইদুরকে বলে দিচ্ছে "লেজ নাড়াতে হবে" অথবা লেজ নাড়াতে হবে না" এরকম। 


উপরের ঘটনাইয় আপনার মনে হতে পারে যে, আরে! এটা তো কো-ইন্সিডেন্স হতেই পারে। তাহলে আরেকটা ঘটনা শুনুন। ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের মিগুয়েল নিকোলেলিস দুইটি ইদুরকে একই সাথে সেম কাজ করানোর জন্য দুই ইদুরের ব্রেইনের মধ্যে মটর কর্টেক্সের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করে। মজার ব্যাপার হলো একটি ইদুর ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার ডারহাম শহরে আর আরেকটি ছিলো ব্রাজিলের নাটালে। 


দুই ইদুরের সামনেই দুইটি করে লিভার রাখা হয়, এই দুইটি লিভারের মধ্যে নির্দিষ্ট একটিতে প্রেস করলে পুরষ্কার হিসেবে একটি ড্রিংক্স বা পানীয় দেওয়া হবে ইদুরকে। পুরষ্কারের লিভার ছিলো Random কিন্তু দুই ইদুরের সামনেই সেম ভাবেই সাজানো ছিল। যখন প্রথম ইদুরটি তার চয়েস সিলেক্ট করে লিভারে প্রেস করে তখন তার মটর কর্টেক্সের ইলেকট্রিক অ্যাক্টিভিটি রেকোর্ড করে সেটিকে একটি সিমপল সিগনালে কনভার্ট করা হয় এবং দ্বিতীয় ইদুরের মটর কর্টেক্সে পাঠানো হয়। তখন দ্বিতীয় ইদুরটি তার চয়েস সিলেকশন করে। এই পরীক্ষার ৬৪% সময়ই ইদুর দুটি একই সাথে পুরষ্কার ওয়ালা লিভারটি প্রেস করতে সক্ষম হয়।


এরকম আরোও অনেক উদাহরণ আছে কিন্তু এর প্রায় সব গুলো পরীক্ষাই উপরের দুইটি পরীক্ষার মতো বাইনারি চয়েসের মতো অথবা ইয়েস-নো। সিম্পল সিগনাল ট্রান্সফারের মতো। কিন্তু যখন বলা হবে আপনি একটি ইদুরকে টেলিপ্যাথির মাধ্যমে বলে দিন "এখন থেকে চলে যাও নাহলে আমি তোমাকে মেরে তাড়িয়ে দিবো"। অথবা আপনি আপনার ভাই বা বোনকে বলছেন "দরজাটি বন্ধ করে দাও"। সেক্ষেত্রে কি হবে? 


উপরের উদাহরণ গুলো কিন্তু বাইনারি চয়েসের মাধ্যমে ব্যাখ্যা বা সলভ করা যায় না। এসব কমান্ডের জন্য ব্রেইন থেকে থেকে অনেক জটিল একটি ইলেকট্রিক অ্যাক্টিভিটি রেকোর্ড হবে এবং সেটিকে যদি একটি সিগনালে কনভার্ট করা হয় সেটিও অনেক জটিল হয়ে যাবে। সেটিকে ডিকোড করে আবার অন্য আরেকটি ব্রেইনকে বুঝানো আরও জটিল। এজন্য এখনো এরকম জটিল কোনো পরীক্ষার সফলতার প্রমাণ পাওয়া যায় নি।



কিছু বিজ্ঞানী দাবি করেন যে, কোয়ান্টাম ফিজিক্সের "এনট্যাঙ্গলমেন্ট" (Quantum Entanglement) তত্ত্ব টেলিপ্যাথির ব্যাখ্যা দিতে পারে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, দুটি কণা একে অপরের থেকে দূরে থাকলেও একইসাথে প্রতিক্রিয়া করতে পারে। কিন্তু এটি মানুষের মস্তিষ্কে প্রযোজ্য কি না তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।


আবার অনেকে মনে করেন যে, মা এবং সন্তানের মধ্যেও নাকি টেলিপ্যাথিক যোগাযোগ দেখা যায়। অনেক মা দাবি করেন তারা তাদের সন্তানের কান্না বা discomforting আগে থেকেই টের পান। আবার এমন অনেক গল্পও প্রচলিত আছে যেখানে যমজ ভাই-বোন একজন অন্যজনের বিপদ বা কষ্টের অনুভূতি শেয়ার করে। 


মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ "স্টারগেট প্রজেক্ট" নামে একটি গোপন গবেষণা চালায়, যেখানে টেলিপ্যাথি বা রিমোট ভিউয়িং (দূর থেকে দেখার ক্ষমতা) নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। যদিও প্রজেক্টটি পরে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এর ফলাফল নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। 


সব মিলিয়ে যদি একটি সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয় যে টেলিপ্যাথি আসলেই সম্ভব কিনা তাহলে এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে এখনো ধোয়াশা। অনেক অনেক ছোট ছোট পরীক্ষা আছে যেগুলো আসলেই প্রমাণ করে টেলিপ্যাথি আসলেই এক্সিস্ট করে কিন্তু আমরা টেলিপ্যাথির ডিফিনিশন থেকে টেলিপ্যাথিকে যেরকমটা কল্পনা করি অথবা ফিকশনে যেরকমটা দেখে আমরা অভ্যস্থ সেরকম কোনো ঘটনা বা পরীক্ষার প্রমাণ এখনো মিলে নি। 


তবে আমি বিশ্বাস করি একদিন হয়তো সম্ভব হবে। নিউরোসায়েন্স যদি Brain-Computer Interface এর মতো টেকনোলজি আবিষ্কার করে অসাধ্য সাধন করতে পারে তাহলে হয়তো একদিন Brain-Brain Interface ও আবিষ্কার হয়ে যাবে। সেইদিনও হয়তো খুব বেশি দূরে নয়।



Sources: 

------------------

ℹ️ National Geographic : https://www.nationalgeographic.com/science/article/will-we-ever-communicate-telepathically

ℹ️ CIA : https://www.cia.gov/readingroom/collection/stargate

0 টি পছন্দ 0 টি অপছন্দ
আপনি কিভাবে একজন সুপারহিউম্যান বা সুপারহিরো হতে পারবেন?

image


সুপার হিউম্যান বা সুপার হিরোর কথা বললে আমাদের মাথায় সবার আগে যে নামটা মাথায় আসে সেটা হলো সুপারম্যান। যারা আমার মতো সাই-ফাই মুভি দেখতে পছন্দ করেন তাদের ক্ষেত্রে এই লিস্ট অনেক বড়। কারণ সাই-ফাই মুভি মানেই যেন সুপার পাওয়া বা সুপার হিরোর খেলা। মার্ভেল কমিক্স হলে তো কথাই নাই। কিন্তু এগুলো কি শুধু কমিক্স বা মুভিতেই সম্ভব? আমরা কি সুপার হিউম্যান বানাতে পারি বাস্তবে? 


সুপার হিউম্যান এর সঙ্গা দিতে হলে সুপার হিউম্যান হলো অন্যসব মানুষের থেকে আলাদা এবং তার মধ্যে এমন এক বা একাধিক গুন বা ক্ষমতা আছে যেটা একটা নরমাল মানুষের নেই বা থাকার কথাও না। হতে পারে সে এসব গুন বা ক্ষমতা ন্যাচারালি পেয়েছে অথবা নিজের উপলব্ধি বা প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে অর্জন করেছে। মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের "ক্যাপ্টেন আমেরিকা" বা "দ্যা ইনক্রিডিবল হাল্ক" এর সব থেকে ভালো উদাহরণ। মার্ভেলের X-Men মুভি সিরিজটি দেখলে আপনি এই পুরো কনসেপ্টটাই ক্লিয়ার হয়ে যাবেন।


তাহলে এবার মেইন পয়েন্টে আসা যাক। সুপার হিউম্যান এর সঙ্গা যদি এটাই হয় তাহলে সুপার হিউম্যান আসলেই সম্ভব। আর সেটা অনেক ভাবেই সম্ভব। কিন্তু আজকে আমরা শুধু জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে কিভাবে আপনি একজন সুপার হিউম্যান হতে পারবেন সেটাই আলোচনা করবো। জিনের মিউটেশনের মাধ্যমে চাইলেই আমাদের মানবদেহের যেকোনো বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা সম্ভব। তাহলে জিন কি আর মিউটেশনই বা কি? 


জিন হলো ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) এর একটি অংশ, যা জীবের বৈশিষ্ট্য এবং কার্যকারিতা নির্ধারণ করে। অর্থাৎ আপনি দেখতে কেমন হবেন, আপনার বুদ্ধি কিরকম হবে, আপনার রুচি-ব্যবহার কিরকম হবে ইত্যাদি এরকম সকল বৈশিষ্ট্যই নির্ধারণ করা থাকে জিনের ভিতরে। অনেকগুলো জিনকে একত্রে বলে জিনোম। আর মিউটেশন হলো ডিএনএ সিকোয়েন্সে পরিবর্তন, যা জিনের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। অর্থাৎ মনে করুন আপনার জিন অনুযায়ী আপনি লম্বা হবেন কিন্তু এখন যদি আপনার ডিএনএ বা জিনোম সিকুয়েন্সের যে জিনটি আপনার লম্বা হওয়ার বৈশিষ্ট্য বহন করছে সেটাতে আপনি পরিবর্তন করে খাটো হওয়ার বৈশিষ্ট্য ঢুকিয়ে দিলেন। এই পরিবর্তন করাটাই হলো মিউটেশন। আর আপনার মধ্যে মিউটেশন হলে আপনি একজন মিউট্যান্ট।


সহজ ভাষায় কোনো জীবের জিনোম সিকুয়েন্স নিয়ে কাজ করাই হলো জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং। মানুষের জীনোম সিকুয়েন্সে পরিবর্তন এনে তাকে সুপারহিউম্যান বানানো সম্ভব। জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এর যত গুলো মেথড বা পদ্ধতি রয়েছে (যেমনঃ CRISPR-Cas9 প্রযুক্তি, রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তি, জিন থেরাপি, জিন ক্লোনিং ইত্যাদি) তাদের মধ্যে সব থেকে সম্ভাবনাময় হলো "CRISPR-Cas9" প্রযুক্তি যা একটি জিন এডিটিং টুল। এই টুলের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা নির্দিষ্ট জিনকে টার্গেট করে সেটি পরিবর্তন, মুছে ফেলা বা নতুন জিন যোগ করতে পারেন। এই প্রযুক্তি চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিপ্লব এনেছে, যেমন ক্যান্সার, এইডস এবং জেনেটিক রোগের চিকিৎসা।


তবে জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার মোটেও এরকম সহজ কিছু নয়। বিষয়গুলো অনেক কমপ্লেক্স আর সেনসিটিভ। বিষয়টা এরকম না যে আপনার বুদ্ধির জন্য যে জিন আছে সেই জিনের মিউটেশন করলেন আর আপনি একজন সুপার কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য পেয়ে গেলেন। যেমন সৌন্দর্য্য, বুদ্ধি, শক্তি ইত্যাদিসহ মানবদেহের  আরও অনেক বৈশিষ্ট্য আছে যেগুলোর জন্য মাল্টিপল জিন দায়ী। এর পাশাপাশি জিন তার চারপাশের পরিবেশ দাড়াও প্রভাবিত হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে থাকে। যদিও এসব এক্সপেরিমেন্ট মানবদেহে করার কোনো প্রমাণ মিলে নি কিন্তু অন্যান্য প্রানী যেমন ইদুর, খরগোশ ইত্যাদিতে করতে দেখা গেছে এবং বিজ্ঞানীরা সফলও হয়েছেন।


আসুন মানবদেহের কিছু সুপার পাওয়ারওয়ালা জিনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিই যেগুলোর পরবর্তন করে আসলেই আপনি একজন সুপার ইউম্যান তথা সুপার হিরো হতে পারবেন।


✅ Speed Gene - আমাদের সবার শরীরে একটি জিন থাকে যেটির নাম ACTN3 আর এই জিনটি পেশী তন্তুগুলির দ্রুত নড়াচড়ার জন্য দায়ী একটি প্রোটিন তৈরির নির্দেশনা প্রদান করে, যা আমাদের দৌড়াতে সক্ষম করে। আপনার ACTN3 জিন পরিবর্তন করে আপনি ডিসি সুপারহিরো 'ফ্ল্যাশ' এর মতো নাহলেও হয়তো হুসাইন বোল্টকে ঠিকই দৌড়ে হারাতে পারবেন।


✅  Bone Gene - এই জিনের নাম হলো LRP5 যা আমাদের হাড়ে ঘনত্ব আর শক্তি নিয়ন্ত্রণ করে। G171V মিউটেশন হাড়ের খনিজ ঘনত্ব বৃদ্ধি করে, যার ফলে অস্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী এবং পুরু হাড় তৈরি হয় এবং হাড় ভাঙা থেকে উচ্চ প্রতিরোধ ক্ষমতা লাভ করা যায়। এর মাধ্যমে আপনি "The Incredible Hulk" এর মতো শক্তিশালী না হলেও জন সিনা বা ব্রোউন স্ট্রোম্যান এর থেকেও বেশি শক্তিশালী হতে পারবেন।


✅ Pain Insensitivity Genes - শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এরকম রোগও আছে যে রোগের কারণ সেই মানুষটা কখনো কোনো রকমের পেইন বা ব্যাথা অনুভব করতে পারেন না। ধরুণ আপনাকে আঘাত করা হয়েছে বা আপনার একটা হাত/পা কেটে ফেলা হয়েছে কিন্তু আপনি কোনো ব্যাথা অনুভব করতে পারছেন না। এই রোগটাকে বলে CIP (Congenital Insensitivity to Pain). SCN9A, FAAH, PRDM12 জিনের মিউটেশনের জন্য সিআইপি রোগ হয়। এই জিনগুলোর মিউটেশনের মাধ্যমে আপনি ডিসি সুপারহিরো Cyborg না হতে পারলেও ব্যাথা বিহীন মানুষ ঠিকই হতে পারবেন। প্রেমে ছ্যাকা খেলে সেটা আলাদা ব্যাপার হলেও হতে পারে।


✅ The Sleepless Gene - স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের ব্রেইন কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং এই ক্লান্তিভার দূর করতে আমাদের প্রতিদিন ঘুম প্রয়োজন হয় মিনিমাম ৬-৮ ঘন্টা। কিন্তু আপনি যদি DEC2,  ADRB1 জিনে মিউটেশন ঘটান তাহলে আপনার তেমন কোনো ঘুমেরই প্রয়োজন পড়বে না। অতি সামান্য ঘুমেও আপনার তেমন কোনো সমস্যাই হবে না, না থাকবে স্বল্প ঘুমের জন্য হওয়া স্বাস্থ্য ঝুকি। আপনার ব্রেইন থাকবে একদম স্বাভাবিক।


✅ EPAS1 Gene -  পৃথিবী থেকে যত উপরে যাবো তত অক্সিজেনের পরিমাণ কমতে থাকে। আর অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিলে আপনার শরীরও কাজ করা কমিয়ে দিবে অথবা আপনি মারাও যেতে পারেন। কিন্তু EPAS1 জিন রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এই জিনের মিউটেশনে আপনি এলিয়েনদের মতো মঙ্গল গ্রহে শ্বাস নিতে না পারলেও মাউন্টেন্ট এভারেস্টে ঠিকই শ্বাস নিয়ে বেচে থাকতে পারবেন।


এরকম আরও অনেক সুপার পাওয়ার ওয়ালা জিন আমাদের শরীরে আছে যেগুলোর মিউটেশন করিয়ে আমরা হয়তো সাই-ফাই মুভি, কমিক্সের মতো পাওয়ারফুল সুপার হিউম্যান হতে পারবো না কিন্তু অন্যান্য মানুষদের তুলনায় বেশ খানিকটা আলাদা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ঠিকই হতে পারবো হয়তো। যদিও বা এরকম সুপার হিউম্যানের কোনো নজির এখনো পাওয়া যায় নি। আপনি ট্রাই করলে আপনিই হয়তো হয়ে যেতে পারেন প্রথম সুপার হিউম্যান ইন রিয়্যাল লাইফ।


সব থেকে মজার ব্যপার হলো ২০১৮ সালে চীনের কিছু বিজ্ঞানী প্রথমবারের মধ্যে Gene-Edited বেবি জন্ম দিতে সফল হয়। যমজ দুই বাচ্চার বাবা এইচআইভি আক্রান্ত ছিল, কিন্তু বিজ্ঞানীরা সেই বাচ্চাদের ভ্রুণের জিনোম সিকুয়েন্স এমন ভাবে চেঞ্জ করে দেয় যাতে বাবার থেকে পাওয়া এইচআইভির জিন বা ডিএনএ তাদের শরীরে না আসে এবং তারা এই কাজে সফলও হন। এই ঘটনার পর সারা বিশ্বে এক বিশাল আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে। কিন্তু চাইনিজ বায়োফিজিসিস্ট He Jiankui এই বিজ্ঞানীদের "Rogue Scientist" বলে আখ্যা দেয় এবং চাইনিজ সরকার মানব ভ্রূণে জিন সম্পাদনা নিষিদ্ধ থাকায় চীনা আইন লঙ্ঘনের জন্য সেই বিজ্ঞানীদের তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়। বর্তমানে খুবই কম সংখ্যক দেশই মানব ভ্রূণে জিন সম্পাদনার অনুমতি দেয় এবং কোথাও এই ধরনের ভ্রূণ গর্ভে স্থাপন করা বৈধ নয়। 


তাহলে এখন বলুন কবে হচ্ছেন সুপারহিরো? আর সুপারহিরো হলে কোন সুপারহিরো হতে চান? 


Sources: 

--------------

ℹ️ BBC Science Focus Magazine: https://www.sciencefocus.com/future-technology/could-we-make-a-superhuman


ℹ️ Medicover Genetics: https://medicover-genetics.com/can-a-genetic-change-make-you-superhuman/


ℹ️ Wikipedia: https://en.wikipedia.org/wiki/Superhuman

0 টি পছন্দ 0 টি অপছন্দ
মানুষ কি আসলেই মঙ্গলে বাস করতে পারবে? ফ্যাক্ট নাকি মিথ?

image



আমরা কথায় কথায় একে অপরকে মঙ্গল গ্রহে পাঠিয়ে দিই, মুড়ির সাথে জিলাপি মেশালে আমরা তাকে মঙ্গল গ্রহের প্রাণী বানিয়ে দিই কিন্তু আসলেই মঙ্গল গ্রহে কোনো প্রাণী আছে কি? মঙ্গল গ্রহে কি মানুষ বসতি নির্মাণ করতে পারবে? এটা ফ্যাক্ট নাকি মিথ? আপনার কি মনে হয় এসব প্রশ্নের উত্তর কি হবে?


আপনার অপিনিয়ন নেওয়ার আগে আমি একটু হালকা কিছু কথা বলে নিই। মঙ্গল গ্রহ সৌরজগতের চতুর্থ গ্রহ এবং পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী। এটি সূর্য থেকে প্রায় ২২.৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। মঙ্গলের ব্যাস পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক এবং এর ভর পৃথিবীর মাত্র ১০%। মঙ্গলের পৃষ্ঠে রয়েছে বিশাল আগ্নেয়গিরি, গভীর গিরিখাত এবং শুকনো নদীর খাত। আর এই শুকনো নদীর খাত দেখেই বিজ্ঞানীরা বলেছেন, একসময় মঙ্গলে নিশ্চয়ই পর্যাপ্ত পানি ছিল যা এখন শুকিয়ে গেছে। 


মঙ্গলে জীবনের গল্প শুরু করার আগে আমাদের মঙ্গলের পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত। মঙ্গলের পরিবেশ মোটেও পৃথিবীর মতো নয়। পৃথিবীর তুলনায় এর বায়ুমণ্ডল অনেক হালকা। বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯৫% -ই কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং খুবই সামান্য পরিমাণে রয়েছে নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন। মঙ্গলে শুকনো নদীর খাত পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত মঙ্গলের পৃষ্ঠে পানির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায় নি। তবে মঙ্গলের মেরু অঞ্চলে বরফের স্তর রয়েছে, যা মূলত জলীয় বরফ এবং কার্বন ডাই অক্সাইড বরফ দিয়ে গঠিত। 


আবার মঙ্গল পৃষ্ঠে ধূলিঝড় প্রায়ই হয়ে থাকে। এটা অনেক সময় এতোটা ভয়াবহ হয় যে এই ঝড় পুরো গ্রহকে আচ্ছন্ন করে ফেলতে পারে। আবার মঙ্গলের আবহাওয়াও অনেক অদ্ভুত। এর পৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা প্রায় -৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা রাতের বেলায় -১৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে। দিনের বেলা তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। মঙ্গলের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর চেয়ে অনেক কম। এর ফলে মানুষের শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন পেশি এবং হাড়ের দুর্বলতা।


তাহলে মঙ্গল গ্রহে এতো এতো প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও কেন মানুষ মঙ্গলে যেতে চায়? কেন মনে হয় যে মানুষ মঙ্গলে বসতি নির্মাণ করতে পারবে? ইংরেজ সায়েন্স ফিকশন রাইটার Arthur C. Clarke এর মতে, যদি মঙ্গলে বসতি নির্মাণ সম্ভবও হয় তাহলেও সেটা শত বছর লেগে যাবে শুধুমাত্র এখন পর্যন্ত যেসব সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা গেছে সেগুলো সমাধান করে বসবাসযোগ্য করতে। 


মঙ্গলে জীবনের জন্য কিছু মৌলিক উপাদান অপরিহার্য যেমন পানি, অক্সিজেন, খাদ্য এবং উপযুক্ত তাপমাত্রা। মঙ্গলে এই সবকিছু পাওয়া খুবই কঠিন। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, মঙ্গলের মাটি থেকে পানি বের করা সম্ভব। ২০০৭ সালের মার্চে নাসা এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মঙ্গলের দক্ষিণ মেরুতে যে পরিমাণ বরফ রয়েছে তা গলিয়ে দিলে সমগ্র গ্রহটি পানিতে ডুবে যাবে এবং এই জলভাগের গভীরতা হবে প্রায় ১১ মিটার (৩৬ ফুট)। সৌরশক্তি ব্যবহার করে শক্তির চাহিদা মেটানো যাবে।  


গ্রীনহাউজ ইফেক্ট তৈরি করে তাপমাত্রা অনুকূলে আনা সম্ভব হতে পারে।

এছাড়া মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে অক্সিজেন উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নাসার "মার্স ২০২০" মিশনে পাঠানো রোভার "পারসিভারেন্স" মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন উৎপাদনের পরীক্ষা চালিয়েছে এবং সফলও হয়েছে। 


কিন্তু তারপরও আপনি যদি মঙ্গল গ্রহে যান তাকে আপনাকে প্রায় সময় একটা শেল্টারের ভিতরে বা স্পেস স্যুট এর ভিতরে থাকতে হবে। কেননা মঙ্গলের পরিবেশ এতোটাই প্রতিকূল যে প্রাথমিক অবস্থায় আপনার যেকোনো সময় যেকোনো কিছুই হয়ে যেতে পারে। পুরোপুরি বসবাসযোগ্য না হওয়া পর্যন্ত আপনি একদমই পৃথিবীর মতো নরমাল জীবন-যাপন করতে পারবেন না। 


তাহলে এখন আপনার কী মনে হয়? মানুষের কি পক্ষে কি মঙ্গলে আসলেই বসতি নির্মাণ করে বসবাস করা সম্ভব? আর যদি সম্ভব হয়ও তাহলে আদৌ কি আমাদের উচিত মঙ্গলে বসতি নির্মাণ করে পৃথিবী ছেড়ে সেখানে বসবাস করা? 


Sources:

----------- 

NASA Mars Exploration - https://science.nasa.gov/planetary-science/programs/mars-exploration/science-goals/


BBC Sky at Night Magazine - https://www.skyatnightmagazine.com/space-science/could-we-live-on-mars


0 টি পছন্দ 0 টি অপছন্দ
সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপর নাই - কথাটি কে বলেছিলেন?

সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপর নাই - কথাটি বলেছিলেন চন্ডীদাস! 

0 টি পছন্দ 0 টি অপছন্দ
বাংলার প্রথম বিপ্লবী মহিলা শহীদ কে?

বাংলার প্রথম বিপ্লবী মহিলা শহীদ হলেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।

0 টি পছন্দ 0 টি অপছন্দ
বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ পুথি সংগ্রাহক কে?

বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ পুথি সংগ্রাহক হলেন বাউল আব্দুল করিম।

0 টি পছন্দ 0 টি অপছন্দ
পবিত্র আল কুরআন প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কে?

পবিত্র আল কুরআন প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন ভাই গিরিশচন্দ্র সেন।

0 টি পছন্দ 0 টি অপছন্দ
নীল দর্পন নাটকের ইংরেজী অনুবাদ করেছিলেন কে?

নীল দর্পন নাটকের ইংরেজী অনুবাদ করেছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

0 টি পছন্দ 0 টি অপছন্দ
পদ্মাবতী রচনা করেন কে?

পদ্মাবতী রচনা করেন মহাকবি আলাওল।

0 টি পছন্দ 0 টি অপছন্দ
জয়নুল আবেদীনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম গুলোর নাম কি কি?

জয়নুল আবেদীনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম গুলোর নাম হলোঃ

  1. সংগ্রাম
  2. ম্যাডোনা-৪৩
  3. মনপুরা-৭০
  4. নবান্ন
  5. সাওতাল রমনী
এছাড়া তিনি দুর্ভিক্ষের ছবি একে ব্যাপক খ্যাতি লাভ করেন।
0 টি পছন্দ 0 টি অপছন্দ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠা করেন কে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠা করেন জয়নুল আবেদীন।

0 টি পছন্দ 0 টি অপছন্দ
খাবার স্যালাইনের আবিষ্কারক বা উদ্ভাবক কে?

খাবার স্যালাইনের (ওরস্যালাইন) আবিষ্কারক বা উদ্ভাবক হলেন বাংলাদেশী ডা. রফিকুল ইসলাম।

0 টি পছন্দ 0 টি অপছন্দ
হাসন রাজা কোথাকার জমিদার ছিলেন?

হাসন রাজা সিলেটের জমিদার ছিলেন।

0 টি পছন্দ 0 টি অপছন্দ
লালন শাহ - এর প্রথম গান কোথায় প্রকাশিত হয়?

লালন শাহ - এর প্রথম গান প্রকাশিত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবাসী পত্রিকায়

0 টি পছন্দ 0 টি অপছন্দ
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি কে প্রতিষ্ঠা করেন?

ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন মাওলানা আব্দুল হামিদ ভাসানী।

0 টি পছন্দ 0 টি অপছন্দ
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কত সালে মৃত্য বরণ করেন?

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯৬৩ সালে মৃত্য বরণ করেন।

0 টি পছন্দ 0 টি অপছন্দ
শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের রাজনৈতিক দলের নাম কি ছিলো?

শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের রাজনৈতিক দলের নাম কি ছিলো কৃষক প্রজাপার্টি।

0 টি পছন্দ 0 টি অপছন্দ
ড. মুহাম্মদ ইউনুসের বিখ্যাত গ্রুন্থগুলোর নাম কি?

ড. মুহাম্মদ ইউনুসের বিখ্যাত গ্রুন্থগুলোর নাম হলোঃ

  • Social Business.
  • Banker to the poor.
0 টি পছন্দ 0 টি অপছন্দ
ড. মুহাম্মদ ইউনুস কত সালে নোবেল পুরুষ্কার পান?

ড. মুহাম্মদ ইউনুস ২০০৬ সালে নোবেল পুরুষ্কার পান।

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এর কার্যক্রম

স্কোর:
462 পয়েন্ট (অবস্থান #1)
প্রশ্ন:
99
উত্তর দিয়েছেন:
97
মন্তব্য করেছেন:
0
ভোট দিয়েছেন:
0 টি প্রশ্ন, 1 টি উত্তর
দিয়েছেন:
1 টি আপ ভোট, 0 টি ডাউন ভোট
পেয়েছেন:
19 টি আপ ভোট, 0 টি ডাউন ভোট
...